# Tags

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’ উপলক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে  বর্ণাঢ্য র‍্যালি

ছোটন বিশ্বাস, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’ উপলক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (০৮ এপ্রিল) সকালে খাগড়াছড়ি চেঙ্গী স্কোয়ার থেকে খাগড়াছড়ি সার্বজনীন বৈসাবি উদযাপন কমিটি’র আয়োজনে পাহাড়ি সকল জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে নিউজিল্যান্ড রোড মেলা মাঠ প্রাঙ্গনে এসে শেষ করে।

বৈসাবি’র র‍্যালিতে অংশ গ্রহণ পেরে উচ্ছ্বসিত ও সমসুরে গানের তালে তালে নৃত্যে মগ্ন তারা।

শেফালী চাকমা বলেন, আজকের র‍্যালির মধ্য দিয়ে আমাদের বিজুর উৎসব শুরু হতে যাচ্ছে। এই র‍্যালিতে শুধু চাকমা না। মারমা, ত্রিপুরা সাঁওতাল,ম্রোরং সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন অংশ গ্রহণ করেছে। আমারও এই র‍্যালিতে এই খুব ভালো লাগছে। অনেক আনন্দ করলাম।

অন্নেষা তালুকদার জানান, আগামী ১২ এপ্রিল থেকে আমাদের নদীতে গঙ্গা দেবী’কে পূজার মাধ্যমে ফুল বিজুর মধ্য দিয়ে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ঐদিন থেকে আমরা পাজন রান্না করবো আর আমাদের ঐতিহ্যবাহী নতুন পোশাক পড়ে প্রতিবেশীদের ঘরে ঘরে গিয়ে খাওয়া দাওয়া করবো। মজা করবো।

খাগড়াছড়ি সার্বজনীন বৈসাবি উদযাপন কমিটি’র সমন্বয়ক ভোলাশ ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ের আমাদের কৃষ্টি – কালচার ধরে রাখার জন্য আজকের এই আয়োজন। এই আয়োজন আমরা প্রতিবছর করার চেষ্টা করি। আজকের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল সহ খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের থেকে ম্রোরং সম্প্রদায়ও আজকের এই র‍্যালিতে অংশ নিয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন মৃদা জানান, ঐতিহ্যবাহী বৈসাবি উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠান গুলোকে নিরাপত্তার স্বার্থে খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন স্থরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আশা করি অনুষ্ঠান গুলো সুন্দর ও নির্বিঘ্নে শেষ করতে পারবো।

আসন্ন বৈসাবি’র আনুষ্ঠানিকতা ১২ এপ্রিল চাকমা’দে ফুল বিজুর মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবং পরপর মারমা, ত্রিপুরা সহ পাহাড়ে বসবাস রত অন্যান্য জনগোষ্ঠীরা নতুন বছরকে বরণের জন্য বর্ণাঢ্য আয়োজনে মেতে পুরাতন বছরের সকল দুঃখ গ্লানিকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করবে তারা।